ওলান ফুলা বা ওলান প্রদাহ:
বিভিন্ন প্রকার জীবাণু দ্বারা গবাদি পশুর ওলান এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে গরুর ওলান আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
লক্ষণঃ
ওলানফুলে শক্ত ও গরম হয়। ওলানে ব্যথা হয়। দুধ কমে যায় এমনকি বন্ধও হয়ে যায়। দুধের রং পরিবর্তন, কখনও পুজের মত বা রক্ত মিশ্রিত হয়। কখনও কখনও দুধের পরিবর্তে টাটকা রক্ত বের হয়।
করণীয়ঃ
দ্রুত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। পশুকে শুকনা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে। ওলান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে। দোহনের পূর্বে দোহনকারীর হাত ধুয়ে নিতে হবে। ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা যাবেনা। কোন অবস্থায় ওলানে কোন কিছুর প্রলেপ দেয়া যাবেনা। ওলান গরম হলে ঠান্ডা এবং ঠান্ডা হলে ঈষৎ গরম সেক দিতে হবে। শক্ত ওলানে দিনে দুই তিন বার কর্পূর তৈল মালিশ করতে হবে। কোন অবস্থায়ই বিলম্ব না করে অসুস্থ পশুকে অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা করতে হবে। হাতুরে ডাক্তারের চিকিৎসার মারত্মক ক্ষতি হতে পারে।
চিকিৎসাঃ
এ রোগটি জটিল প্রকৃতির বিধায় পশুচিকিৎসকের পরামর্শমত চিকিৎসা করানো উচিৎ।
বাছুরের সাদা উদরাময় (ডায়েরিয়া)
এটি ১ দিন বয়স থেকে ৩ সপ্তাহ বয়সের বাছুরের ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি রোগ।
লক্ষণঃ
বাছুর ঘনঘন চাল ধোয়া পানির মত দূর্গন্ধযুক্ত সাদা পাতলা পায়খানা করে। বাছুরের অরুচি হয় এবং শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। বাচুর দুর্বল ও ক্রমে ক্রমে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়।
করণীয়ঃ
জন্মের পর বাছুরকে পর্যাপ্তপরিমাণ কাঁচলা/শাল দুধ পান করাতে হবে। বাছুরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।
চিকিৎসাঃ
সালফানামাইড বা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন অথবা উভয় জাতীয় ঔষধ নির্ধারিত মাত্রায় ৪ - ৫ দিন ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন ব্যবহার করতে হবে।
No comments:
Post a Comment